ঢাকা, বাংলাদেশ

লঞ্চভাড়া ৩৬–৪২ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব

প্রকাশিত :

‎নিজস্ব প্রতিবেদক : জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে অভ্যন্তরীণ নৌপথে যাত্রীবাহী লঞ্চের ভাড়া ৩৬ থেকে ৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছে নৌ-চলাচল যাত্রী পরিবহন (যাপ) সংস্থা। প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটারের কম ও বেশি উভয় দূরত্বে কিলোপ্রতি এক টাকা বাড়ানোর প্রস্তাব ইতিমধ্যে অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) কাছে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। এ ছাড়া যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) এ-সংক্রান্ত চিঠি দেওয়ার বিষয়টি আজকের পত্রিকাকে নিশ্চিত করেছেন সংস্থার মহাসচিব মো. ছিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারী। তিনি জানান, গতকাল শনিবার (১৮ এপ্রিল) সরকার ডিজেলের দাম লিটারপ্রতি ১৫ টাকা বাড়িয়ে ১১৫ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর ফলে লঞ্চ পরিচালনার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে গেছে। এই অবস্থায় লঞ্চ খাত টিকিয়ে রাখতে যাত্রীভাড়া পুনর্নির্ধারণ জরুরি হয়ে পড়েছে।

সংস্থাটির প্রস্তাব অনুযায়ী, ১০০ কিলোমিটার পর্যন্ত দূরত্বে বর্তমান প্রতি কিলোমিটারে ভাড়া দুই টাকা ৭৭ পয়সা থেকে এক টাকা বাড়িয়ে তিন টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানানো হয়েছে, যা প্রায় ৩৬ শতাংশ বৃদ্ধি। আর ১০০ কিলোমিটারের বেশি দূরত্বে বর্তমান দুই টাকা ৩৮ পয়সার স্থলে এক টাকা বাড়িয়ে তিন টাকা ৩৮ পয়সা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে, যা প্রায় ৪২ শতাংশ বৃদ্ধি। এ ছাড়া যাত্রীপ্রতি সর্বনিম্ন ভাড়া ২৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩৫ টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, অভ্যন্তরীণ নৌপথে চলাচলকারী লঞ্চগুলো সম্পূর্ণভাবে ডিজেলনির্ভর। জ্বালানির দাম বাড়ার পাশাপাশি প্লেট, অ্যাঙ্গেল, প্রপেলার, ইঞ্জিনের খুচরা যন্ত্রাংশ, ওয়েল্ডিং রড, গ্যাস, রং, স্পেয়ার পার্টসসহ বিভিন্ন খাতে ব্যয় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে।

এ ছাড়া সড়ক যোগাযোগের ব্যাপক উন্নয়নের কারণে যাত্রীসংখ্যা কমে যাওয়ায় লঞ্চগুলো ধারণক্ষমতা অনুযায়ী যাত্রী পাচ্ছে না। ফলে মালিকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন বলেও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়।

এ পরিস্থিতিতে লঞ্চ খাত টিকিয়ে রাখতে প্রস্তাবিত হারে ভাড়া পুনর্নির্ধারণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে অনুরোধ জানিয়েছে যাপ।

যুগশঙ্খ